আমার দেওঘর যাত্রা

LABANI SAHA
1 ST SEM (2024-2026)

দিনটি ছিল ১৭ ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার আমি, বাবা, মা,ভাই, দিদি ও দাদু সবাই মিলে বেড়িয়ে পড়লাম দেওঘর
ঠাকুর বাড়ি দর্শনের উদ্দেশ্যে। আমাদের ট্রেন ছিল রাত ১১:২০ মিনিটে, হাওড়া থেকে মোকামা এক্সপ্রেস, গাড়ি
ছাড়তে ১৫  মিনিট দেরি হয়। গাড়ি ব্যান্ডেল স্টেশনে এসে পৌঁছল, এখানে গাড়ি পাঁচ -সাত মিনিট দাঁড়ালো।
দাদু বললেন দেওঘর পৌঁছতে অনেক দেরী হয়ে যাবে। ট্রেন দ্রুত গতিতে চলতেই থাকে আমরা খাওয়া-দাওয়া
করি, সবাই নিজেদের মতো করে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিলো। কিন্তু চেকার মামা তার কাজ করেই যাচ্ছে। আমি
বরাবরের মতো জানালার পাশেই বসে ছিলাম। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য্য আর দেখা হয়ে উঠল না রাতের
নিবিড় অন্ধকারে। এরপর যখন ঘুম ভাঙলো তখন ভোর পাঁচটা জানালার দিকে তাকাতেই দেখি সূয্যি মামা
টুকি টুকি খেলছে। আমাদের নামার সময় হয়ে আসে। মথুরাপুর, শংকরপুর,কুমরাবাদ, রোহিনী পেরিয়ে
আমাদের গন্তব্য স্টেশনে নেমে পড়ি। স্টেশনে নামতেই মালবাহী কুলি কাকুরা বাবাকে দাদুকে বলতে থাকে
আমাদের ব্যাগ পত্র গুলি যেন তাদের দিয়ে বহন করাই কিন্তু বাবা একাই ব্যাগ পত্র নিয়ে অটোর দিকে এগিয়ে
গেল আমরাও একে একে উঠে পড়লাম পৌঁছে গেলাম দেওঘর শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আশ্রমে। এরপর
আমরা সারাদিন ঠাকুরবাড়ির আনাচে-কানাচে ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যাকালীন প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করি। প্রার্থনা
শেষ হতেই প্রণাম সেরে লাইন দিই প্রসাদের উদ্দেশ্যে। আমরা জানতাম যে প্রার্থনা করার পরেই ভালো ভালো
প্রসাদ পাওয়া যায় তাই হুড়োহুড়ি করে সারিবদ্ধ ভাবে প্রসাদ নিয়ে বেরিয়ে আসি। এরপর রাতে
আনন্দবাজারের প্রসাদ খেয়ে চললাম ঘুমাতে। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে কারণ পরদিন ভোরে উঠে
বেড়িয়ে পড়তে হবে দর্শনীয় স্থানগুলি দেখার জন্য। যেই কথা সেই কাজ ভোরবেলা উঠে আমরা সকলেই তৈরি
হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। এরপর গাড়িওয়ালা কাকু একে একে সব জায়গা ঘুরিয়ে তার সম্পর্কে কিছু বিশেষ
বিশেষ কথা বলে আমাদের মনে আরো আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে পরবর্তী স্থানগুলি পরিদর্শনে। আমরা বালেশ্বর
মন্দির,নলক্ষ্যা মন্দির,তপোবন,ত্রিকূট পাহাড়, শ্রী বাবা বৈদ্যনাথ মন্দির দর্শন করি, পরদিন সকালে উঠে

আমরা হোটেল ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে থাকি, তারপর হোটেল চেক আউটের পর আমরা আমাদের বাড়ির
উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পরদিন ভোরে আমরা বাড়িতেও চলে আসি কিন্তু ফেলে রেখে আসি দেওঘরে কাটানো
স্মরণীয় সময় গুলি। বাড়িতে নিয়ে আসি কিছু স্মৃতি। ডাইরির পাতায় ভর্তি করে কয়েক পাতা লেখা লিখি।

আর কিছু বিশেষ মুহূর্তের ছবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top